দরওয়াজা ক্রেটার: তুর্কমেনিস্তানের রহস্যময় ‘নরকের দরজা’, যেখানে অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় ধরে জ্বলছে আগুন!
ভাবুন, রাতের অন্ধকারে আপনি দাঁড়িয়ে আছেন বিশাল এক মরুভূমির মাঝখানে। চারপাশে নীরবতা, মাথার ওপর অসংখ্য তারা। হঠাৎ সামনে দেখতে পেলেন মাটির বিশাল একটি গর্ত, যার ভেতর থেকে বেরিয়ে আসছে আগুনের লেলিহান শিখা! মনে হবে যেন পৃথিবীর বুক চিরে খুলে গেছে নরকের কোনো দরজা।
অবিশ্বাস্য মনে হলেও এমন একটি জায়গা সত্যিই রয়েছে পৃথিবীতে। এর নাম দরওয়াজা গ্যাস ক্রেটার (Darvaza Gas Crater)। এটি তুর্কমেনিস্তানের কারাকুম মরুভূমির (Karakum Desert) বুকে অবস্থিত। স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যটকদের কাছে এটি পরিচিত ‘ডোর টু হেল’ বা ‘নরকের দরজা’ নামে।
কিন্তু প্রশ্ন হলো, মরুভূমির মাঝখানে বিশাল এই গর্তে আগুন জ্বলছে কেন? কে প্রথম এই আগুন জ্বালিয়েছিল? আর এত বছর পেরিয়ে যাওয়ার পরও আগুন কীভাবে জ্বলছে?চলুন, পৃথিবীর অন্যতম রহস্যময় এই স্থানটির অজানা ইতিহাস, বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা এবং চমকপ্রদ তথ্যগুলো জেনে নেওয়া যাক।

Photo: © Tormod Sandtorv | Source: Wikimedia Commons | License: CC BY-SA 2.0
১. কোথায় অবস্থিত এই রহস্যময় নরকের দরজা?
দরওয়াজা ক্রেটার অবস্থিত মধ্য এশিয়ার দেশ তুর্কমেনিস্তানের কারাকুম মরুভূমির মাঝখানে। রাজধানী আশগাবাত (Ashgabat) থেকে এটি প্রায় ২৬০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত।
এটি কোনো আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখ নয়। বরং প্রাকৃতিক গ্যাসসমৃদ্ধ ভূগর্ভস্থ একটি এলাকার ধসে পড়া বিশাল গর্ত। গর্তটির ভেতরে জমে থাকা প্রাকৃতিক গ্যাসে আগুন জ্বলতে থাকায় রাতের বেলায় এটি দেখতে অসাধারণ এক অগ্নিকুণ্ডের মতো লাগে।
মরুভূমির নির্জন পরিবেশে আগুনের এই দৃশ্য এতটাই অস্বাভাবিক যে, একে পৃথিবীর অন্যতম ব্যতিক্রমী দর্শনীয় স্থান হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

২. কীভাবে সৃষ্টি হয়েছিল নরকের দরজা?
দরওয়াজা ক্রেটারের জন্ম নিয়ে সবচেয়ে প্রচলিত কাহিনি শুরু হয় ১৯৭১ সালে।
সোভিয়েত ইউনিয়নের সময় ভূতাত্ত্বিক ও অনুসন্ধানকারীরা এই অঞ্চলে প্রাকৃতিক গ্যাসের সন্ধানে খননকাজ চালাচ্ছিলেন। ধারণা করা হয়, খননকাজের একপর্যায়ে ভূগর্ভস্থ গ্যাসসমৃদ্ধ একটি ফাঁপা স্তরের ছাদ ধসে পড়ে। ফলে মাটির ওপর তৈরি হয় বিশাল একটি গর্ত।
ধসের কারণে আশপাশের এলাকায় মিথেন গ্যাস ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। তখন পরিবেশ ও মানুষের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে গ্যাসে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে বহুল প্রচলিত বর্ণনায় উল্লেখ রয়েছে।
অনুসন্ধানকারীদের ধারণা ছিল, কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই গর্তের ভেতরের গ্যাস পুড়ে শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু বাস্তবে ঘটেছে সম্পূর্ণ উল্টো ঘটনা!আগুন নিভে যাওয়ার পরিবর্তে বছরের পর বছর ধরে জ্বলতে থাকে। এভাবেই একটি দুর্ঘটনাজনিত ভূতাত্ত্বিক ঘটনা পৃথিবীর অন্যতম আলোচিত রহস্যময় স্থানে পরিণত হয়।
৩. কেন এত বছর ধরেও আগুন নিভে যায়নি?
এই প্রশ্নের উত্তর লুকিয়ে আছে ভূগর্ভস্থ প্রাকৃতিক গ্যাসের মধ্যে।
প্রাকৃতিক গ্যাসের অন্যতম প্রধান উপাদান হলো মিথেন (Methane)। দরওয়াজা ক্রেটারের নিচে ও আশপাশের ভূগর্ভস্থ গ্যাসের স্তর থেকে মিথেন বেরিয়ে আসে। এই গ্যাস বাতাসের অক্সিজেনের সংস্পর্শে এসে আগুনের মাধ্যমে পুড়তে থাকে।
আগুন জ্বলার জন্য মূলত তিনটি উপাদান প্রয়োজন:
- জ্বালানি: ভূগর্ভ থেকে বেরিয়ে আসা প্রাকৃতিক গ্যাস।
- অক্সিজেন: আশপাশের বাতাস থেকে পাওয়া যায়।
- তাপ: আগুন জ্বালু রাখার জন্য প্রয়োজনীয় তাপ।
এই তিনটি উপাদান একসঙ্গে থাকায় আগুন দীর্ঘ সময় ধরে জ্বলতে পেরেছে।তবে মনে রাখতে হবে, গর্তের ভেতরের একই গ্যাস অনবরত পুড়ছে এমন নয়; বরং ভূগর্ভ থেকে নতুন গ্যাস বেরিয়ে এসে আগুনকে জ্বালিয়ে রাখছে।

৪. কতটা বিশাল এই আগুনের গর্ত?
দরওয়াজা ক্রেটার আকারে এতটাই বড় যে কাছ থেকে দেখলে এর বিশালত্ব সহজে কল্পনা করা যায় না।
এর আনুমানিক পরিমাপ:
- প্রস্থ: প্রায় ৬০–৭০ মিটার।
- গভীরতা: প্রায় ২০–৩০ মিটার।
গর্তের ভেতরে অসংখ্য ছোট-বড় আগুনের শিখা দেখা যায়। কোনো কোনো জায়গায় আগুনের শিখা অনেক উঁচুতে উঠে যায়, আবার কোথাও মাটি থেকেই আগুন বের হতে দেখা যায়।
দিনের আলোতে গর্তটির বিশালত্ব বোঝা গেলেও রাতের অন্ধকারে এর সৌন্দর্য সম্পূর্ণ ভিন্ন রূপ ধারণ করে।
৫. প্রথম কে নেমেছিলেন জ্বলন্ত গর্তের ভেতরে?
দরওয়াজা ক্রেটারের সবচেয়ে সাহসী ও আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি ঘটেছিল ২০১৩ সালে।কানাডার অভিযাত্রী ও অনুসন্ধানকারী জর্জ কুরোনিস (George Kourounis) একটি বিশেষ বৈজ্ঞানিক অভিযানের অংশ হিসেবে জ্বলন্ত গর্তের ভেতরে নেমেছিলেন।
এটি কোনো সাধারণ অভিযান ছিল না। কারণ গর্তের ভেতরে ছিল প্রচণ্ড তাপ, বিষাক্ত গ্যাস এবং ধসে পড়ার ঝুঁকি।
বিশেষভাবে তৈরি তাপ-প্রতিরোধী পোশাক, নিরাপত্তা সরঞ্জাম এবং দড়ির সাহায্যে তিনি গর্তের নিচে পৌঁছান। সেখানে তিনি মাটির নমুনা সংগ্রহ করেন এবং আগুনের পরিবেশ নিয়ে গবেষণার জন্য তথ্য সংগ্রহ করেন।সবচেয়ে অবাক করার বিষয় হলো, এত প্রতিকূল পরিবেশেও তিনি গর্তের ভেতরে জীবনের অস্তিত্বের সন্ধান পেয়েছিলেন বলে তাঁর অভিযানের প্রতিবেদনে উঠে আসে।
এই অভিযান দরওয়াজা ক্রেটারকে শুধু পর্যটন আকর্ষণ নয়, বৈজ্ঞানিক গবেষণার ক্ষেত্র হিসেবেও পরিচিত করে তোলে।
৬. কেন একে বলা হয় ‘নরকের দরজা’?
এর নাম শুনলেই মনে হতে পারে এটি কোনো পৌরাণিক বা ধর্মীয় স্থানের নাম। কিন্তু বাস্তবে নামটির পেছনে রয়েছে এর ভয়ংকর দৃশ্য।রাতের বেলায় বিশাল গর্তের ভেতর থেকে শত শত আগুনের শিখা বের হতে দেখা যায়। চারপাশের অন্ধকার মরুভূমি, তীব্র তাপ এবং আগুনের লালচে আলো এক অদ্ভুত পরিবেশ তৈরি করে।
দূর থেকে দেখলে মনে হয় পৃথিবীর মাটির নিচে কোনো বিশাল আগুনের রাজ্য রয়েছে।
এই অস্বাভাবিক দৃশ্যের কারণেই মানুষ একে নাম দিয়েছে:
- Door to Hell
- Gates of Hell
- Darvaza Gas Crater
স্থানীয় তুর্কমেন ভাষায় ‘জাহান্নাম দেরভেজেসি’ (Jähennem derwezesi) নামেও এটি পরিচিত। যার অর্থ নরকের দরজা।
৭. মহাকাশ থেকেও কি দেখা যায় এই আগুন?
দরওয়াজা ক্রেটার নিয়ে একটি মজার তথ্য হলো, এর তাপীয় কার্যকলাপ ও আগুনের উপস্থিতি স্যাটেলাইটের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব।NASA-র Earth Observatory ২০১১ সালে এই স্থানটির একটি স্যাটেলাইট চিত্র প্রকাশ করেছিল। সেখানে মরুভূমির মাঝখানে আগুনের এই অস্বাভাবিক স্থানটির অবস্থান তুলে ধরা হয়।
তবে একটি বিষয় পরিষ্কার করা জরুরি: খালি চোখে মহাকাশ থেকে আগুন দেখা যায়—এমন দাবি ঠিক নয়। স্যাটেলাইটের বিশেষ সেন্সর তাপ ও সংশ্লিষ্ট বিকিরণ শনাক্ত করতে পারে।এ কারণে দরওয়াজা ক্রেটার শুধু পর্যটকদের কাছেই নয়, পৃথিবীর ভূতাত্ত্বিক ও পরিবেশবিষয়ক গবেষকদের কাছেও গুরুত্বপূর্ণ।

৮. নরকের দরজা কি পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর?
দেখতে আকর্ষণীয় হলেও দরওয়াজা ক্রেটার পরিবেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগের বিষয়।এর প্রধান কারণ মিথেন গ্যাস। মিথেন একটি শক্তিশালী গ্রিনহাউস গ্যাস। এটি বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়লে বৈশ্বিক উষ্ণায়নে ভূমিকা রাখে।
আগুনের মাধ্যমে মিথেন পুড়লে সেটি প্রধানত কার্বন ডাই-অক্সাইড ও জলীয় বাষ্পে পরিণত হয়। কিন্তু গর্ত থেকে নির্গত সব গ্যাস যে সম্পূর্ণ পুড়ে যায়, তা নিশ্চিত নয়।
২০২৬ সালে Geophysical Research Letters-এ প্রকাশিত একটি গবেষণায় স্যাটেলাইট তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা হয়েছে, ২০২০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে এই ক্রেটার থেকে প্রায় ৭১ হাজার টন মিথেন নির্গত হয়েছে বলে গবেষকরা হিসাব করেছেন।এটি দেখায়, নরকের দরজার সৌন্দর্যের আড়ালে একটি গুরুতর পরিবেশগত সমস্যা রয়েছে।
৯. নরকের দরজা কি বন্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে?
হ্যাঁ! তুর্কমেনিস্তান সরকার এই আগুনের পরিবেশগত ক্ষতি কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে।দীর্ঘদিন ধরে জ্বলতে থাকা এই ক্রেটার থেকে মিথেন নির্গমন কমানো দেশটির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০২২ সালে দেশটির প্রেসিডেন্ট আগুন নিভিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
এরপর বিশেষজ্ঞরা ক্রেটারের আশপাশের গ্যাসক্ষেত্রে নতুন কূপ খনন এবং পুরোনো কূপ চালুর মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ গ্যাস অন্যদিকে উত্তোলনের কাজ শুরু করেন। উদ্দেশ্য ছিল ক্রেটারের দিকে গ্যাসের প্রবাহ কমিয়ে আনা।
এর ফলও দেখা গেছে।
তুর্কমেনিস্তানের ২০২৫ সালের সরকারি জ্বালানি খাতের প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২০২৩ সালের তুলনায় ক্রেটারের আগুনের তীব্রতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। স্বাধীন স্যাটেলাইট পর্যবেক্ষণেও আগুনের তীব্রতা তিন গুণের বেশি কমে যাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।
২০২৬ সালের গবেষণাতেও আগুনের তীব্রতা সময়ের সঙ্গে কমার বিষয়টি উঠে এসেছে।অর্থাৎ, একসময় যে আগুন বহু দূর থেকেও দেখা যেত, বর্তমানে সেটি আগের মতো তীব্র নয়। তবে আগুন সম্পূর্ণ নিভে গেছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো তথ্য নেই।
১০. পর্যটকদের কাছে কেন এত জনপ্রিয় এই স্থান?
দরওয়াজা ক্রেটার এমন একটি জায়গা, যেখানে প্রকৃতি, বিজ্ঞান এবং মানুষের ভুলের ইতিহাস একসঙ্গে মিশে গেছে।
বিভিন্ন দেশের পর্যটক ও অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমীরা এই স্থান দেখতে তুর্কমেনিস্তানে যান।
এখানে পর্যটকদের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অভিজ্ঞতাগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- রাতের আগুন দেখা: অন্ধকার মরুভূমিতে জ্বলন্ত গর্তের দৃশ্য উপভোগ করা।
- মরুভূমিতে ক্যাম্পিং: ক্রেটারের আশপাশে তাঁবুতে রাত কাটানো।
- তারাভরা আকাশ: শহরের আলোকদূষণ থেকে দূরে মরুভূমির আকাশ উপভোগ করা।
- ফটোগ্রাফি: আগুন, বালুর প্রান্তর এবং রাতের আকাশের অসাধারণ ছবি তোলা।
- অ্যাডভেঞ্চার: দুর্গম মরুভূমির পথ পাড়ি দিয়ে এই রহস্যময় স্থানে পৌঁছানো।
তবে নিরাপত্তার জন্য গর্তের কিনারায় খুব বেশি কাছে যাওয়া উচিত নয়। প্রচণ্ড তাপ, বিষাক্ত গ্যাস এবং মাটি ধসে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।

১১. দরওয়াজা ক্রেটার সম্পর্কে ১০টি চমকপ্রদ তথ্য
১. এটি কোনো আগ্নেয়গিরি নয়।
এটি প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্রের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি ধসে পড়া গর্ত।
২. আগুনের ইতিহাস অর্ধশতাব্দীরও বেশি পুরোনো।
প্রচলিত বর্ণনায় ১৯৭১ সালকে শুরুর সময় বলা হলেও সঠিক সময় নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।
৩. আগুনের প্রধান জ্বালানি মিথেন।
ভূগর্ভ থেকে বেরিয়ে আসা প্রাকৃতিক গ্যাস আগুনকে জ্বালিয়ে রাখে।
৪. ২০১৩ সালে প্রথম নথিভুক্ত বৈজ্ঞানিক অবতরণ হয়।
অভিযাত্রী জর্জ কুরোনিস গর্তের নিচে নেমেছিলেন।
৫. এটি কারাকুম মরুভূমির বুকে অবস্থিত।
চারপাশের নির্জন মরুভূমি এর রহস্যময়তা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
৬. রাতেই এর দৃশ্য সবচেয়ে আকর্ষণীয়।
অন্ধকারের মধ্যে আগুনের কমলা আভা অসাধারণ দৃশ্য তৈরি করে।
৭. স্যাটেলাইটেও এর তাপীয় কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণ করা যায়।
বিশেষ সেন্সরের সাহায্যে আগুন ও তাপের উপস্থিতি শনাক্ত করা সম্ভব।
৮. এর আগুনের তীব্রতা কমেছে।
২০২৫ সালের প্রতিবেদনে আগের তুলনায় তিন গুণের বেশি তীব্রতা হ্রাসের কথা বলা হয়েছে।
৯. এটি একটি দুর্ঘটনা থেকে পর্যটন আকর্ষণে পরিণত হয়েছে।
মানুষের তৈরি অনুসন্ধানকাজের দুর্ঘটনা আজ আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত একটি দর্শনীয় স্থানের জন্ম দিয়েছে।
১০. এর ভবিষ্যৎ এখনো অনিশ্চিত।
গ্যাসের প্রবাহ কমতে থাকলে আগুন আরও দুর্বল হতে পারে, এমনকি একসময় নিভেও যেতে পারে।
১২. ১৯৭১ সালের গল্পটি কি পুরোপুরি সত্য?
এখানেই রয়েছে দরওয়াজা ক্রেটারের সবচেয়ে আকর্ষণীয় রহস্যগুলোর একটি।
দীর্ঘদিন ধরে ১৯৭১ সালে সোভিয়েত ভূতাত্ত্বিকদের খননকাজের সময় গর্তটি সৃষ্টি হয় এবং তখনই আগুন জ্বালানো হয়েছিল—এমন গল্প প্রচলিত।কিন্তু ২০২৬ সালে Geophysical Research Letters-এ প্রকাশিত একটি স্যাটেলাইটভিত্তিক গবেষণা নতুন তথ্য সামনে এনেছে। গবেষকদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ক্রেটারের আগুন সম্ভবত ১৯৮৭ সালের শেষ থেকে ১৯৮৮ সালের শুরুর মধ্যে জ্বলতে শুরু করে।
অর্থাৎ, গর্তটি সৃষ্টি হওয়ার সময় এবং আগুন জ্বলার সময় এক নাও হতে পারে।এই গবেষণা প্রচলিত ইতিহাস নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে। তাই ১৯৭১ সালের ঘটনাকে নিশ্চিতভাবে আগুন জ্বলার তারিখ বলা এখন আর যথাযথ হবে না।
শেষ কথা: এক দুর্ঘটনা, যা পৃথিবীর বিস্ময় হয়ে উঠেছে
দরওয়াজা ক্রেটার শুধু একটি জ্বলন্ত গর্ত নয়; এটি মানুষের প্রযুক্তিগত অনুসন্ধান, ভূতাত্ত্বিক পরিবর্তন এবং পরিবেশগত প্রভাবের এক অসাধারণ উদাহরণ।
একসময় যে আগুনকে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে নিভে যাওয়ার কথা ভাবা হয়েছিল, সেটিই কয়েক দশক ধরে পৃথিবীর মানুষের কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
তবে এখন আগুনের তীব্রতা কমছে। হয়তো এমন একদিন আসবে, যেদিন তুর্কমেনিস্তানের এই বিখ্যাত ‘নরকের দরজা’ চিরতরে নিভে যাবে। তখন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে এটি শুধু একটি পর্যটন আকর্ষণ নয়, বরং পৃথিবীর ইতিহাসে ঘটে যাওয়া এক বিস্ময়কর ঘটনার স্মৃতিচিহ্ন হয়ে থাকবে।


Leave a Reply