২০২৬ সালে প্রয়াত হয়েছেন বাংলাদেশের ১৭ জন জনপ্রিয় শিল্পী, অভিনেতা ও সংগীতশিল্পী। জেনে নিন তাঁদের নাম, মৃত্যুর তারিখ ও মৃত্যুর কারণ।
একটি কণ্ঠ থেমে যায়, একটি পরিচিত মুখ হারিয়ে যায়, মঞ্চের আলো নিভে আসে। কিন্তু একজন প্রকৃত শিল্পীর সৃষ্টি কখনো হারিয়ে যায় না।২০২৬ সাল বাংলাদেশের বিনোদন ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের জন্য বেশ কয়েকটি শোকাবহ বিদায়ের বছর। বছরের শুরু থেকে নভেম্বর পর্যন্ত চলচ্চিত্র, টেলিভিশন, সংগীত, মঞ্চনাটক ও লোকসংস্কৃতির অনেক পরিচিত মানুষ পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন।
কেউ ছিলেন চলচ্চিত্রের সোনালি দিনের নায়ক, কেউ স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কণ্ঠযোদ্ধা, কেউ আবার মঞ্চনাটকের কিংবদন্তি। তাঁদের প্রত্যেকের জীবন ও কাজ বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।এই প্রতিবেদনে ২০২৬ সালের ৩ নভেম্বর পর্যন্ত সংবাদমাধ্যমে মৃত্যুর খবর প্রকাশিত হওয়া কয়েকজন বাংলাদেশি শিল্পীর পরিচয়, মৃত্যুর তারিখ, মৃত্যুর কারণ এবং তাঁদের শিল্পীজীবনের উল্লেখযোগ্য দিক তুলে ধরা হলো।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: এটি সংবাদমাধ্যমে যাচাই করা তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি একটি সংকলন; বাংলাদেশের সব প্রয়াত শিল্পীর পূর্ণাঙ্গ সরকারি তালিকা নয়।
২০২৬ সালে প্রয়াত বাংলাদেশি শিল্পীদের পরিচয়
১. ইলিয়াস জাভেদ: চলচ্চিত্রের সোনালি দিনের জনপ্রিয় নায়ক

মৃত্যু: ২১ জানুয়ারি ২০২৬
বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের সোনালি সময়ের জনপ্রিয় অভিনেতাদের একজন ছিলেন ইলিয়াস জাভেদ। ষাটের দশকে চলচ্চিত্রে যাত্রা শুরু করে তিনি দীর্ঘদিন দর্শকদের বিনোদন দিয়েছেন।১৯৬৪ সালে উর্দু চলচ্চিত্র ‘নাই জিন্দেগি’ দিয়ে তাঁর চলচ্চিত্রজীবনের শুরু। তবে ১৯৬৬ সালে ‘পায়েল’ মুক্তির পর তিনি ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। শাবানার বিপরীতে অভিনয় করে দর্শকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি।
দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর ২১ জানুয়ারি ঢাকার উত্তরায় নিজ বাসায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই অভিনেতা।তাঁর উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে ‘মালেকা বানু’, ‘নিশান’, ‘পাপী শত্রু’, ‘রক্ত শপথ’ ও ‘সাহেব বিবি গোলাম’।
সূত্র: The Daily Star – Legendary actor Ilias Javed passes away.
২. প্রলয় চাকী: নব্বইয়ের দশকের পরিচিত সংগীতশিল্পী

মৃত্যু: ১১ জানুয়ারি ২০২৬
প্রলয় চাকী ছিলেন সংগীতশিল্পী, সংগীত পরিচালক, শিক্ষক ও সাংস্কৃতিক সংগঠক। নব্বইয়ের দশকে সংগীতাঙ্গনে তাঁর পরিচিতি তৈরি হয়েছিল।তিনি একাধিক সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর খবর বিশেষভাবে আলোচনায় আসে, কারণ তিনি কারাগারে থাকা অবস্থায় অসুস্থ হয়ে পড়েন।
প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, পাবনা কারাগারে হৃদ্যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হওয়ার পর তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১১ জানুয়ারি রাতে তাঁর মৃত্যু হয়।তাঁর মৃত্যু ঘিরে পরিবারের পক্ষ থেকে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগও উঠেছিল। তবে সেটি পরিবারের অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করা উচিত।
সূত্র: The Daily Star – Musician, AL leader Proloy Chaki dies in jail custody.
৩. মিলন কান্তি দে: যাত্রাশিল্পের একজন গুরুত্বপূর্ণ পথিকৃৎ

মৃত্যু: ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বাংলাদেশের লোকনাট্য ও যাত্রাশিল্পের ইতিহাসে মিলন কান্তি দে একটি পরিচিত নাম। প্রায় ছয় দশকের শিল্পীজীবনে তিনি যাত্রাপালা পরিচালনা, অভিনয় ও লেখালেখির মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।তিনি ১২০টিরও বেশি যাত্রাপালা পরিচালনা এবং ১৫১টির বেশি যাত্রাপালায় অভিনয় করেছিলেন বলে সংবাদমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে।
ক্যানসার ও বার্ধক্যজনিত শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি। ৭ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের পটিয়ায় নিজ বাড়িতে তাঁর মৃত্যু হয়।যাত্রাশিল্পের উন্নয়নে তাঁর দীর্ঘদিনের অবদান তাঁকে স্মরণীয় করে রাখবে।
সূত্র: The Daily Star – Veteran jatra artiste Milon Kanti Dey dies at 78.
৪. দস্তগীর হক: আন্ডারগ্রাউন্ড ব্যান্ড সংগীতের পরিচিত কণ্ঠ

মৃত্যু: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বাংলাদেশের ব্যান্ড সংগীতের ইতিহাসে দস্তগীর হক ছিলেন একজন পরিচিত শিল্পী। তিনি Underground Peace Lovers ব্যান্ডের কণ্ঠশিল্পী ও গিটারিস্ট হিসেবে পরিচিত ছিলেন।ব্যান্ড সংগীতের ভিন্নধর্মী ধারার সঙ্গে যুক্ত এই শিল্পী দীর্ঘদিন সংগীতচর্চা করেছেন।
৬৮ বছর বয়সে ১১ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ঢাকার কুর্মিটোলা হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়।তাঁর মৃত্যুর নির্দিষ্ট চিকিৎসাগত কারণ সম্পর্কে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক – ব্যান্ড তারকা দস্তগীর হক মারা গেছেন।
৫. তিনু করিম: ছোটপর্দার পরিচিত অভিনেতা

মৃত্যু: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বাংলাদেশের টেলিভিশন নাটকের পরিচিত মুখ ছিলেন অভিনেতা তিনু করিম।ছোটপর্দায় তাঁর অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি দর্শকদের কাছে পরিচিতি লাভ করেন। তাঁর মৃত্যুর খবর অভিনয়শিল্পী সংঘের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মামুন অপু নিশ্চিত করেছিলেন।
১২ ফেব্রুয়ারি দুপুরে বরিশালে তাঁর মৃত্যু হয়। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে মৃত্যুর নির্দিষ্ট চিকিৎসাগত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক – অভিনেতা তিনু করিম মারা গেছেন।
৬. বৈদ্যনাথ সাহা: মঞ্চ ও টেলিভিশনের প্রবীণ অভিনেতা

মৃত্যু: ৩ মার্চ ২০২৬
দীর্ঘ অভিনয়জীবনে মঞ্চ, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রে কাজ করেছেন বৈদ্যনাথ সাহা।যশোরের মঞ্চনাটক দিয়ে তাঁর অভিনয়জীবন শুরু হয়। পরে আশির দশকে টেলিভিশনে কাজ শুরু করেন।
‘নদী থেকে সমুদ্রে’, ‘এ মধুর খেলা’ ও ‘লাল নীল বেগুনি’সহ বিভিন্ন নাটকে তাঁর অভিনয় দর্শকদের কাছে পরিচিতি পেয়েছিল।৭৩ বছর বয়সে বয়সজনিত অসুস্থতার চিকিৎসাধীন অবস্থায় যশোরের একটি হাসপাতালে ৩ মার্চ তাঁর মৃত্যু হয়।
সূত্র: The Daily Star – Bangladeshi actor Baidya Nath Saha passes away.
৭. শামস সুমন: জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেতা

মৃত্যু: ১৭ মার্চ ২০২৬
শামস সুমন ছিলেন মঞ্চ, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রের একজন প্রতিভাবান অভিনেতা।স্বাভাবিক অভিনয়শৈলী এবং বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে অভিনয়ের দক্ষতার কারণে তিনি দর্শকদের কাছে পরিচিত ছিলেন।
২০০৮ সালে ‘স্বপ্নপূরণ’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেতার সম্মাননা অর্জন করেন।দীর্ঘদিন ধরে লিভারের জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি। ১৭ মার্চ ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
সূত্র: bdnews24.com – Actor Shams Sumon dies at 61 in Dhaka hospital.
৮. মাহবুবা রহমান: বাংলাদেশের প্রথম সবাক চলচ্চিত্রের কণ্ঠশিল্পী

মৃত্যু: ২৬ মার্চ ২০২৬
বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ও সংগীতের ইতিহাসে মাহবুবা রহমানের নাম বিশেষভাবে স্মরণীয়।তিনি বাংলাদেশের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য সবাক চলচ্চিত্র ‘মুখ ও মুখোশ’-এ গান গেয়েছিলেন।
‘মনের বনে দোলা লাগে’ গানটির মাধ্যমে তিনি বিশেষ পরিচিতি লাভ করেন। পঞ্চাশ ও সত্তরের দশকে রেডিও এবং চলচ্চিত্রের সংগীতাঙ্গনে তাঁর জনপ্রিয়তা ছিল।বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন জটিলতায় দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর ৯২ বছর বয়সে ঢাকার একটি হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়।
সূত্র: bdnews24.com – ‘Mukh O Mukhosh’ singer Mahbuba Rahman dies at 92.
৯. ডালিয়া নওশীন: নজরুলসংগীতের এক অনন্য কণ্ঠ

মৃত্যু: ১ এপ্রিল ২০২৬
বাংলাদেশের নজরুলসংগীতের জগতে ডালিয়া নওশীন ছিলেন একজন সম্মানিত শিল্পী।তিনি স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় সংগীতের মাধ্যমে দেশের মানুষের মধ্যে সাহস ও অনুপ্রেরণা ছড়িয়ে দিতে কাজ করেন।
নজরুলসংগীতে অসামান্য অবদানের জন্য ২০২০ সালে একুশে পদক লাভ করেন তিনি। ২০২২ সালে নজরুল পদকেও সম্মানিত হন।দীর্ঘদিন ক্যানসারে আক্রান্ত থাকার পর ১ এপ্রিল ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
সূত্র: The Daily Star – Eminent Nazrul Sangeet artiste Dalia Nausheen no more.
১০. তারিকুজ্জামান তপন: দর্শকদের হাসানো একজন অভিনেতা

মৃত্যু: ২৪ এপ্রিল ২০২৬
তারিকুজ্জামান তপন ছিলেন চলচ্চিত্র ও টেলিভিশনের একজন পরিচিত কৌতুকাভিনেতা।বিভিন্ন নাটক ও চলচ্চিত্রে তাঁর অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকদের হাসিয়েছেন তিনি।
‘আলতা বানু’, ‘ঠিকানা’ ও ‘যা ছিল অন্ধকারে’ তাঁর অভিনীত চলচ্চিত্রের মধ্যে উল্লেখযোগ্য।পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিনি খাদ্যনালির ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন। রোগটি চতুর্থ পর্যায়ে পৌঁছেছিল। ২৪ এপ্রিল রাতে ঢাকার রামপুরায় নিজ বাসায় ৬০ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যু হয়।
সূত্র: bdnews24.com – Tariquzzaman Tapan, once-familiar small and big screen comedian, dies of cancer at 60.
১১. আতাউর রহমান: বাংলাদেশের মঞ্চনাটকের কিংবদন্তি

মৃত্যু: ১২ মে ২০২৬
বাংলাদেশের মঞ্চনাটকের ইতিহাসে আতাউর রহমান ছিলেন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একজন ব্যক্তিত্ব।তিনি ছিলেন অভিনেতা, নাট্যকার, মঞ্চনির্দেশক ও লেখক। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের নাট্য আন্দোলনকে এগিয়ে নিতে তাঁর ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য।
মঞ্চনাটকে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি একুশে পদক ও স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেন।বাড়িতে পড়ে যাওয়ার পর তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। পরে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একাধিক অঙ্গ বিকল হওয়ার পর ৮৪ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যু হয়।
সূত্র: The Daily Star – Monchosharothi Ataur Rahman no more.
১২. কারিনা কায়সার: নতুন প্রজন্মের অভিনয় ও কনটেন্ট জগতের প্রতিভা

মৃত্যু: ১৫ মে ২০২৬
কারিনা কায়সার ছিলেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর, অভিনেত্রী ও চিত্রনাট্যকার।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর পরিচিতি তৈরি হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে অভিনয় ও চিত্রনাট্য লেখার কাজেও যুক্ত হন।
‘৩৬-২৪-৩৬’ ও ‘ইন্টার্নশিপ’-এর মতো কাজে তাঁর সম্পৃক্ততা ছিল।শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ভারতের ভেলোরে নেওয়া হয়। পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হেপাটাইটিস এ ও ই-জনিত জটিলতা থেকে লিভার ফেইলিউর হয়েছিল। ১৫ মে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩০ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যু হয়।
সূত্র: bdnews24.com ও The Business Standard – Kaarina Kaisar dies in India.
১৩. দিলু মজুমদার: মঞ্চনাটকের নিবেদিতপ্রাণ অভিনেতা

মৃত্যু: ২০ মে ২০২৬
দিলু মজুমদার ছিলেন আরণ্যক নাট্যদলের একজন সদস্য এবং মঞ্চ ও টেলিভিশনের পরিচিত অভিনেতা।দীর্ঘ অভিনয়জীবনে বিভিন্ন নাটকে কাজ করে তিনি দর্শকদের কাছে নিজের অবস্থান তৈরি করেছিলেন।
২০ মে সন্ধ্যায় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়।
সূত্র: Jago News – Actor Dilu Majumdar passes away.
১৪. মুস্তাফা মনোয়ার: বাংলাদেশের পাপেট শিল্পের পথিকৃৎ

মৃত্যু: ২৯ জুন ২০২৬
বাংলাদেশের শিল্প ও সংস্কৃতির জগতে মুস্তাফা মনোয়ার ছিলেন এক অসাধারণ প্রতিভা।তিনি চিত্রশিল্পী, নাট্যনির্দেশক, শিল্প গবেষক এবং পাপেট বা পুতুলনাট্যের পথিকৃৎ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। বাংলাদেশের মানুষ তাঁকে ‘পাপেট ম্যান’ নামেও চিনতেন।শিল্পকলায় অবদানের জন্য ২০০৪ সালে একুশে পদক লাভ করেন।
বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন তিনি। পরে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ঢাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি হন। অবস্থার অবনতি হলে আইসিইউতে নেওয়া হয়। ৯১ বছর বয়সে ২৯ জুন তাঁর মৃত্যু হয়।
সূত্র: bdnews24.com – Artist Mustafa Monwar, the ‘Puppet Man of Bangladesh’, dies at 91.
১৫. শিবু রায়: স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কণ্ঠযোদ্ধা

মৃত্যু: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিবু রায় ছিলেন একজন মুক্তিযোদ্ধা, সংগীতশিল্পী ও সুরকার।মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী হিসেবে তাঁর ভূমিকা ছিল। পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশনেও কাজ করেছেন।
দীর্ঘদিন সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। স্ট্রোকজনিত জটিলতায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৩ সেপ্টেম্বর সকালে তাঁর মৃত্যু হয়।
সূত্র: The Times – Shibu Roy, Swadhin Bangla Betar Kendra singer, dies at 82.
১৬. মুকুল জামিল: সংগীত ও অভিনয় দুই অঙ্গনের পরিচিত মুখ

মৃত্যু: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মুকুল জামিল ছিলেন সংগীতশিল্পী ও অভিনেতা।
ছোটবেলা থেকেই রবীন্দ্রসংগীতের প্রতি তাঁর আগ্রহ ছিল। পরবর্তী সময়ে ৩০টির বেশি মিক্সড অ্যালবামে কাজ করেন। তাঁর একক অ্যালবামের নাম ‘আমি তো এমনই’।‘মন’, ‘আচ্ছা’, ‘বিলবোর্ড’, ‘ভালোবাসার মানে’ ও ‘ফাগুনের হাওয়া’ তাঁর পরিচিত গানের মধ্যে রয়েছে।
‘ওয়েডিং বেলস’, ‘আমানুষ’ ও ‘ছাত্রী বউ’ চলচ্চিত্রেও তিনি কাজ করেছেন।১৩ সেপ্টেম্বর রাতে হৃদ্যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তাঁর মৃত্যু হয় বলে সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
সূত্র: Jago News – অভিনেতা-গায়ক মুকুল জামিল মারা গেছেন।
১৭. রাসেল খান: তিন দশকেরও বেশি সময়ের অভিজ্ঞ গিটারশিল্পী

মৃত্যু: ২২ অক্টোবর ২০২৬
বাংলাদেশের সংগীতাঙ্গনে রাসেল খান ছিলেন একজন পরিচিত গিটারশিল্পী।তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশের বিভিন্ন জনপ্রিয় শিল্পীর সঙ্গে মঞ্চে গিটার বাজিয়েছেন তিনি। শুধু বাদ্যযন্ত্রশিল্পী হিসেবেই নয়, মাঝেমধ্যে কণ্ঠশিল্পী হিসেবেও কাজ করেছেন।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার পর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। ২২ অক্টোবর ঢাকার বনানীতে বোনের বাসায় অবস্থানকালে হঠাৎ পড়ে যান। পরে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রতিবেদনে স্ট্রোককে মৃত্যুর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
১৩ অক্টোবর মানিকগঞ্জে ছিল তাঁর শেষ মঞ্চ পরিবেশনা।
সূত্র: Dhaka Tribune – Guitarist Russell Khan dies at 52.
এক নজরে: ২০২৬ সালে প্রয়াত শিল্পীদের তালিকা
| শিল্পীর নাম | শিল্পের ক্ষেত্র | মৃত্যুর তারিখ |
|---|---|---|
| প্রলয় চাকী | সংগীত | ১১ জানুয়ারি |
| ইলিয়াস জাভেদ | চলচ্চিত্র | ২১ জানুয়ারি |
| মিলন কান্তি দে | যাত্রাশিল্প | ৭ ফেব্রুয়ারি |
| দস্তগীর হক | ব্যান্ড সংগীত | ১১ ফেব্রুয়ারি |
| তিনু করিম | টেলিভিশন | ১২ ফেব্রুয়ারি |
| বৈদ্যনাথ সাহা | অভিনয় | ৩ মার্চ |
| শামস সুমন | অভিনয় | ১৭ মার্চ |
| মাহবুবা রহমান | সংগীত | ২৬ মার্চ |
| ডালিয়া নওশীন | নজরুলসংগীত | ১ এপ্রিল |
| তারিকুজ্জামান তপন | অভিনয় | ২৪ এপ্রিল |
| আতাউর রহমান | মঞ্চনাটক | ১২ মে |
| কারিনা কায়সার | অভিনয় ও কনটেন্ট | ১৫ মে |
| দিলু মজুমদার | অভিনয় | ২০ মে |
| মুস্তাফা মনোয়ার | শিল্প ও পাপেট | ২৯ জুন |
| শিবু রায় | সংগীত | ১৩ সেপ্টেম্বর |
| মুকুল জামিল | সংগীত ও অভিনয় | ১৩ সেপ্টেম্বর |
| রাসেল খান | গিটারশিল্পী | ২২ অক্টোবর |
শেষ কথা: তাঁদের সৃষ্টি বেঁচে থাকবে প্রজন্মের পর প্রজন্ম
একজন শিল্পীর প্রকৃত পরিচয় শুধু তাঁর জনপ্রিয়তা কিংবা অর্জিত পুরস্কারে সীমাবদ্ধ থাকে না। তাঁর কাজ কত মানুষের হৃদয় স্পর্শ করেছে, কত মানুষের জীবনে আনন্দ ও অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে, সেটিই তাঁর সবচেয়ে বড় পরিচয়।
২০২৬ সালে যাঁরা আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন, তাঁদের প্রত্যেকের শিল্পীজীবন আলাদা, অবদান আলাদা। কেউ রেখে গেছেন চলচ্চিত্রের স্মৃতি, কেউ সংগীতের অমর সুর, কেউ আবার মঞ্চনাটকের সমৃদ্ধ ইতিহাস।
তাঁদের শারীরিক উপস্থিতি আর ফিরে আসবে না। কিন্তু তাঁদের সৃষ্টি, কণ্ঠ ও অভিনয় বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
শিল্পীরা চলে যান, কিন্তু তাঁদের শিল্প কখনো বিদায় নেয় না।


Leave a Reply