WELCOME TO JHOMLOJOGOT.COM • November 5, 2026
BREAKING
Recent News

পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলন: মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে উত্তাল শিল্পাঞ্চল

November 5, 2026Jholmole Jogot
বাংলাদেশে পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলন ও ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা মজুরির দাবি

পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলনে উত্তাল শিল্পাঞ্চল, কাজে ফিরছেন শ্রমিকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক | ৫ নভেম্বর ২০২৬

দেশের তৈরি পোশাক শিল্পে ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির দাবিকে কেন্দ্র করে কয়েক দিন ধরে চলা শ্রমিক অসন্তোষে উত্তেজনা বিরাজ করছে বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে।

বিশেষ করে সাভার, আশুলিয়া, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের কয়েকটি এলাকায় শ্রমিকদের বিক্ষোভ, কর্মবিরতি ও কারখানা বন্ধের ঘটনা ঘটেছে। তবে বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিভিন্ন এলাকায় শ্রমিকরা আবারও কাজে ফিরতে শুরু করেছেন।

বাংলাদেশের পোশাক কারখানায় কর্মরত শ্রমিক ও ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলন

৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবি

পোশাক শ্রমিকদের প্রধান দাবি হলো মাসিক ন্যূনতম মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা। শ্রমিকদের বক্তব্য, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, বাসাভাড়া, যাতায়াত ও অন্যান্য জীবনযাত্রার ব্যয়ের কারণে বর্তমান মজুরিতে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

মজুরি বৃদ্ধির পাশাপাশি শ্রমিকরা রেশনিং সুবিধা, ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকার, অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুতি ও শ্রমিকদের কালো তালিকাভুক্ত করার প্রথা বন্ধসহ বিভিন্ন দাবি জানিয়েছেন।

বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে বিক্ষোভ ও কারখানায় অচলাবস্থা

গত কয়েক দিনে সাভার ও আশুলিয়াসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকদের বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। কয়েকটি স্থানে সড়ক অবরোধ, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ এবং কারখানায় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়।

৫ নভেম্বর সকালে আশুলিয়ার কিছু কারখানায় শ্রমিকদের কর্মবিরতি ও বিক্ষোভের খবর পাওয়া যায়।

এ কারণে কয়েকটি কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয় এবং আব্দুল্লাহপুর-বাইপাইল সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়।

তবে একই দিনে গাজীপুর, সাভার ও আশুলিয়ার অনেক কারখানায় শ্রমিকরা কাজে যোগ দিয়েছেন। বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে উৎপাদন কার্যক্রমও ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে।

নতুন মজুরি কাঠামো নিয়ে কী সিদ্ধান্ত?

শ্রমিকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার ১ নভেম্বর পোশাক শ্রমিকদের জন্য ছয় সদস্যের একটি নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করে।

৪ নভেম্বর বোর্ডের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

নতুন মজুরি কাঠামো ডিসেম্বর থেকে কার্যকর করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

তবে মজুরি কত টাকা বাড়ানো হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়নি। নতুন কাঠামো অনুযায়ী প্রথম বেতন পাওয়ার সম্ভাব্য সময় ২০২৭ সালের জানুয়ারি।

দেশের অর্থনীতিতে কী প্রভাব পড়তে পারে?

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে তৈরি পোশাক শিল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ খাত থেকে দেশের বিপুল পরিমাণ রপ্তানি আয় আসে এবং লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে।

দীর্ঘ সময় ধরে শ্রমিক অসন্তোষ চলতে থাকলে পোশাক উৎপাদন, রপ্তানি আদেশ সময়মতো সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

অন্যদিকে শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা এবং শিল্পকারখানায় স্থিতিশীল পরিবেশ বজায় রাখাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

এখন কী হতে পারে?

শ্রমিকদের দাবি, মালিকপক্ষের অবস্থান এবং সরকারের মজুরি বোর্ডের সিদ্ধান্ত—এই তিনটি বিষয় আগামী দিনগুলোতে পরিস্থিতির গতিপথ নির্ধারণ করবে।

সংশ্লিষ্ট সবার মধ্যে আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে দ্রুত একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান আসবে—এমন প্রত্যাশা করছেন শ্রমিক ও শিল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

সর্বশেষ পরিস্থিতি: ৫ নভেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে পরিস্থিতির উন্নতি ও নতুন করে বিক্ষোভ—দুই ধরনের খবরই পাওয়া গেছে।

তাই নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা জরুরি।

তথ্যসূত্র: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড (TBS), বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (BSS), ঢাকা ট্রিবিউন ও রয়টার্স।

আরও পড়ুন ও তথ্যসূত্র

Categories: Recent News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *